সালাত মানবিক সংস্কৃতির আলোকিত অধ্যায় - ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ

সালাত মুমিন জীবনে একটি অপরিহার্য ইবাদত। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, ইহকালীন ও পরকালীন জীবনে মুক্তির অন্যতম প্রধান সোপান এটি। সালাত আদায়ের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তায়ালার সাথে বান্দার গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। বিচ্ছুরিত হয় মানবিক সংস্কৃতির বিশুদ্ধ আলো। নামাজের আরবি শব্দ সালাত। সালাত শব্দের শাব্দিক অর্থ দরূদ বা শুভকামনা করা, তাসবিহ বা পবিত্রতা বর্ণনা, রহমত বা দয়া, করুণা কামনা করা, ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। তা ছাড়া কথা এবং স্থান, কাল পাত্র ভেদে সালাত বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। সালাতের পারিভাষিক অর্থ হচ্ছে- ‘নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট ইবাদত আদায় করার নাম সালাত’। সুস্থ, বিবেকবান, বুদ্ধিসম্পন্ন, শারীরিক দিক দিয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিগণের ওপর সালাত আদায় করা অপরিহার্য। যারা পবিত্র আমেজ ও আবেগ-অনুভূতিতে জগতের সীমানা ভেদ করে আরশে আজিমে সিজদাহ পৌঁছাতে পারে, তারাই সালাতকে প্রাণবন্ত বা জীবন্ত করে তুলতে পারে। এমন নামাজই মানুষের চিন্তা-চেতনা ও ঈমানি জীবনকে পূর্ণতা দান করেন। যখন কোনো নামাজি ব্যক্তির জীবন থেকে এক ওয়াক্ত সালাত ক্বাজা হয়, তখন তার জীবনে শূন্যতা বোধ হয়। এই শূন্যতা তার মাঝে সৃষ্টি করে চরম মানসিক দুশ্চিন্তা। জামায়াতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে পারলে মানসিক পরিতৃপ্তি আসে। এটাই ঈমান, এটাই বিশ্বাস, আত্মজিজ্ঞাসার জবাব। প্রকৃত আত্মজিজ্ঞাসার জবাব হলো আল্লাহর অস্তিত্বকে বিশ্বাস করা। এই বিশ্বাস একমাত্র সালাতের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব। আর সালাতই হলো মানবিক সংস্কৃতি বিকাশের প্রধানতম সিঁড়ি।

হালাল উপার্জন ও আল্লাহর স্মরণ - হাফেজ মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম

٩ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَىٰ ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ(৯) ١ فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ(১০) সরল অনুবাদ: ৯) হে লোকসকল, যারা ঈমান এনেছো, জুমার দিন যখন নামাজের জন্য তোমাদের ডাকা হয় তখন আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য বেশি ভালো যদি তোমরা অনুধাবন করতে। ১০) তারপর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায় তখন ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং অধিক মাত্রায় আল্লাহকে স্মরণ করতে থাকো। আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা জুমআ : ৯-১০)

ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতি- রেদওয়ান রাওয়াহা

ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত এক নির্ভেজাল জীবন বিধান। ইসলামের পরিচয়ে আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন- اِنَّ الدِّیۡنَ عِنۡدَ اللّٰہِ الۡاِسۡلَامُ- অর্থাৎ ‘ নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে ইসলামই একমাত্র দ্বীন। (সূরা আল ইমরান : ১৯) আমরা জানি, আল্লাহর দেয়া এই ইসলাম, এই জীবন বিধানে কোনো খুঁত নেই। ঘাটতি নেই। এটা পরিপূর্ণ। পবিত্র কালামে হাকিমে আল্লাহ সুবহানাহু ওতা’আলা বলেন, اَلۡیَوۡمَ اَکۡمَلۡتُ لَکُمۡ دِیۡنَکُمۡ وَ اَتۡمَمۡتُ عَلَیۡکُمۡ نِعۡمَتِیۡ وَ رَضِیۡتُ لَکُمُ الۡاِسۡلَامَ دِیۡنًا ؕ فَمَنِ اضۡطُرَّ فِیۡ مَخۡمَصَۃٍ غَیۡرَ مُتَجَانِفٍ لِّاِثۡمٍ ۙ فَاِنَّ اللّٰهَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۳﴾ ‘ আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করলাম ও তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য একমাত্র দীন রূপে মনোনীত করলাম।’ (সূরা মায়িদা : ০৩)

গতিশীল রাখুন আপনার ময়দান - রাজিবুর রহমান

ইকামাতে দ্বীনের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরজ দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করতে হয় সংঘবদ্ধভাবে। অর্থাৎ দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। আর দ্বীন প্রতিষ্ঠার এ সংগ্রাম পরিচালনার জন্য যারা এগিয়ে আসে, তাদেরকে সংঘবদ্ধ করে গঠিত হয় ইসলামী সংগঠন। এ সংগঠনের প্রতিটি কর্মী আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সাথে পালন করে এবং সংগঠনের কাজ গতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। কর্মীদের সুসংগঠিত প্রচেষ্টা সংগঠনকে একটি শক্তিতে পরিণত করে।

যেখানেই ছাত্র, ইসলামের আহ্বান পৌঁছানোর লক্ষ্যে সেখানেই আমরা -রাজিবুর রহমান

মানুষকে আল্লাহর পথে আহ্বানের কাজ বা দায়িত্ব সরাসরি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নির্দেশিত। বিশ্বাসীদের জন্য দাওয়াতি কাজের গুরুত্ব বোঝা ও তদনুযায়ী কাজ করার জন্য একটি আয়াতই যথেষ্ট হতে পারে। “তোমরা আল্লাহর দিকে মানুষকে হিকমাহ ও সুন্দরতম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করবে, আর বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়”। (সূরা নাহল : ১২৫)

সময় এখন ‘ইসলামফোবিয়া’ প্রতিহত করার -রাশেদুল ইসলাম

প্রতিবাদের ভাষা সবসময় একরকম হয় না। মুখের ভাষায় কিংবা রাস্তায় বিভিন্নভাবে অবস্থান করার মাধ্যমে স্বাধীন দেশে মানুষ তার স্বাধীন মত প্রকাশ করবে, এটা আবহমানকাল থেকে বাংলার রীতি ছিলো। বিশেষ করে বাকশাল পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পেতে শুরু করেছিলো। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় হলে স্বাধীনতার সূর্য নতুন ধারায় অস্তমিত হতে শুরু করে। ইংরেজদের কাছে রাজসিংহাসনের কতিপয় আত্মবিস্মৃত গুরুত্বপূর্ণ নেতার পদস্খলনের মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় পরবর্তী পরাধীন জীবনের সাথে আজকের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনা করা একটু কঠিন। জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সিনিয়র সিটিজেনদের মধ্যে যারা উচ্চশিক্ষিত। এই শ্রেণির মানুষদের চিন্তাধারার ওপর সবসময় সাধারণ মানুষ আস্থাশীল থাকে। দুঃখজনকভাবে সত্য ঘটনা হচ্ছে, এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণির সুশীলসমাজের অধিকাংশই আজকে ইচ্ছে করে হোক অথবা বাধ্য হয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কথা বলেন, মত প্রকাশ করেন এবং থিওরি ছাড়েন। ফলশ্রুতিতে সত্য চর্চাকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই সিনিয়র সিটিজেনদের সার্বিক সাপোর্ট পাওয়া সরকার পাকাপোক্ত হয়ে যা ইচ্ছে তা-ই করতে থাকে। হয়েছেও তাই। বিপরীতে সত্যপন্থী সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে মুখর হতে যেহেতু বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন, তাই তারা মৌন থেকেই আজ প্রতিবাদ করছেন।

রমাদান পরবর্তী এগারো মাসে করণীয় -মুহাদ্দিস ডক্টর এনামুল হক

রমাদানের পরে আরবি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল। এটি হজের তিন মাস তথা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের মধ্যে প্রথম মাস। এ মাসের প্রথম তারিখে রমাদানের বা ঈদুল ফিতর এবং সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। রমাদান-উত্তর ঈদুল ফিতর, সাদাকাতুল ফিতর, হজের সংশ্লিষ্টতাসহ এ মাসটি তার অবস্থান ও মর্যাদার কারণে ইসলামী জীবনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। রমাদানে মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন তাদের জন্য এ মাসে বাড়তি সুসংবাদ রয়েছে। তা হলো শাওয়াল মাসের ৬টি সিয়াম। সহীহ হাদিসে এসেছে, আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে নর-নারী রমাদান মাসে সিয়াম পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসে ছয় দিন সিয়াম পালন করলো, সে যেন সারা বছর সিয়াম পালন করলো। (মুসলিম-২৮১৫, তিরমিজি-৭৫৯)। ভালো ও মন্দ কর্মের প্রতিদান প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি একটি সৎকাজ করবে, তাকে দশগুণ প্রতিদান দেয়া হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি একটি পাপ করবে, তাকে শুধু এক পাপের সমান বদলা দেয়া হবে। বস্তুত তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।” (সূরা আনআম : ১৬০) উক্ত আয়াতে প্রত্যেক সৎকাজের প্রতিদান দশগুণ দেয়ার কথা বলা হয়েছে, যদিও তা সর্বনিম্ন পরিমাণ। আল্লাহ তায়ালা স্বীয় কৃপায় আরো বেশি দিতে পারেন।

১১ মে কুরআন দিবস বাংলাদেশের সবুজ ভূখণ্ডে শাহাদাতের দীপ্ত মিছিল -রাশেদুল ইসলাম

আল্লাহর দেওয়া বিধানের আলোকে মানুষের জীবন পরিচালনার বিরোধিতা করার জন্যই শয়তানের সকল তৎপরতা। এই তৎপরতার মূল ক্রীড়নক মানুষ নিজেই। অনেকের ধারণা, মহাগ্রন্থ আল কুরআনের বিরোধিতা শুধুমাত্র কুরআন না জানার কারণে। এটা একদিক থেকে ঠিক আছে। তবে এর উল্টোপাশে বিশাল জায়গাজুড়ে যে বিষয়টি রয়েছে, তা হলো মহান আল্লাহর সাথে মানুষের সরাসরি বিরোধিতায় লিপ্ত হওয়া। যারা এই বিরোধিতায় লিপ্ত হয়, তারা পৃথিবীর তাবৎ সত্য-ফিতরাত উপেক্ষা করেই তাদের কর্মসূচি নির্ধারণ করে থাকে। ১৯৮৫ সালের ১১ মে কুরআনপ্রেমীদের উপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৮ জন ভাইয়ের শাহাদাতের ঘটনা সেরকম আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশবিশেষ।

চাইতে হবে আল্লাহর কাছেই - মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত

পৌষের শেষ দুপুর এখনো মাঘ মাস শুরু হয়নি। মেঘের আড়ালে সারাবেলা সূর্য লুকিয়ে থাকায় দুপুর পেরিয়েও শীতের প্রকোপটা অন্য দিনের চাইতে একটু বেশিই মনে হচ্ছিল। এর মাঝে এক পশলা বৃষ্টি নামলো হঠাৎ করে। এমন সময় লোহার শিকলের ফাঁক দিয়ে ঝিরঝির বৃষ্টি দেখছি আর আনমনে মুখ দিয়ে উচ্চারিত হচ্ছিল সুরসম্রাট শিল্পী মশিউর রহমানের গাওয়া বিশিষ্ট গীতিকার আসাদ বিন হাফিজের লেখা জনপ্রিয় একটি গানের দু’এক লাইন-“পৃথিবী না জানুক আমি তো জানি, আমি কি পাপ করেছি হায়, আমার পাপের করলে বিচার বাঁচার নাই উপায়” যখনই একান্তে নিজেকে নিয়ে ভাবি, আত্ম-সমালোচনা করি তখনই এ গানটির কথা মনে চলে আসে। গানের লাইনগুলো উচ্চারণের সাথে সাথে শিহরণ দিয়ে লোমকূপ নাড়া দিয়ে যায়। দুনিয়ার আদালতে মিথ্যা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ অভিযোগের বিপরীতে সাহস করেই বলতে পারি আমি অপরাধী নই অভিযোগের সাথে দূরতম সম্পর্কও নেই আমার। কিন্তু ব্যক্তিজীবনে আল্লাহর আদেশ নিষেধ পালন, রাসূল সা.-এর অনুসরণ, শিরকমুক্ত জীবনগঠন, ফরজ ওয়াজিব হালাল হারাম মেনে চলা, কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা, অন্যের হক ও অধিকার ক্ষুন্ন না করা, এসব প্রশ্নে যখন নিজেকে নিজেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাই, তখন গানের লাইনগুলো নিজ অনুভূতিকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়। নিজের কৃতকর্মের অনুশোচনায় মহান আল্লাহ তায়ালাকে ডেকে বারবার পানাহ চাই। জানা অজানা, সগিরা (ছোট) কবিরা (বড়) গোনাহ পাপের জন্য কায়মনোবাক্যে নিবেদন করি অসীম দয়াময় আল্লাহর কাছে। মানুষ যখন পাপমোচনের তাগাদা অনুভব করে তখন নিজেকে সঁপে দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছেই নিবেদন করে। কারণ মানুষের যত চাওয়া সব নিবেদনের জায়গাদাতা একমাত্র আল্লাহরই নিকট। আবার মানুষ যখন বিপদ আপদ মুসিবতে পতিত হয় তখনও উত্তরণের জন্য আল্লাহর কাছেই ধরনা দেয়। পাপমোচন, বিপদ আপদ কিংবা মুসিবত ছাড়াও মানুষের যেকোনো চাহিদা পূরণের প্রত্যাশায় মানুষ দু’হাত তুলে আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা করে। মানুষ যে আল্লাহর কাছেই চাইবে কিংবা তার সকল চাহিদা যে আল্লাহকেই জানাবে এবং তাতে আল্লাহ সাড়া দিবেন সেটিও আল্লাহই আমাদের বলে দিয়েছেন। কুরআনুল কারিমে এসেছে “তোমাদের প্রভু বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকের (দোয়ার) জবাব দেবো (দোয়া কবুল করবো)। (সূরা মুমিন : ৬০)

"ব্যক্তিগত রিপোর্ট সংরক্ষণ পরকালীন জবাবদিহিতা সহজ করে" -ড. মো: হাবিবুর রহমান

আল্লাহ তায়ালা এই পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষের জীবন পরিচালনার পদ্ধতি ও পন্থা কী হবে তাও বলে দিয়েছেন। এ সম্পর্কে আল-কুরআনে বলা হয়েছে, قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدًى فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (৩৮) আমি বললাম, ‘তোমরা সবাই তা থেকে নেমে যাও। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হিদায়াত আসবে, তখন যারা আমার হিদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।’ (সূরা বাকারা : ৩৮) উপরোক্ত আয়াতে যে জীবন-বিধানের কথা বলা হয়েছে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহর এই বিধানের চেয়ে উত্তম বিধান আর নেই। তাই এই বিধান যারা দুনিয়ায় মেনে চলবে তারা পরকালীন জীবনে শান্তিতে থাকবে এবং যারা এটা মানবে না তারা কঠিন কষ্টের মধ্যে নিমজ্জিত হবে।