নৈতিক মূল্যবোধে তরুণ সমাজ

একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ সমাজ। তরুণেরা যত বেশি আদর্শিক, কর্মঠ ও দেশপ্রেমিক হবে সেই সমাজ ও রাষ্ট্র তত বেশি উন্নত ও সুশৃঙ্খল হবে। সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় যুবসমাজ বোঝা নয় অমূল্য সম্পদ। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এই বিশ্বসভ্যতার ইমারত নির্মাণে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে যে শ্রেণি তার নাম তরুণ সমাজ।

নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়: আমাদের করণীয়

অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত আজকের বিশ্ব, মানবতা আজ বিপর্যস্ত। পৃথিবীর সর্বত্রই বিরাজ করছে অশান্তি, অরাজকতা; জুলুম-শোষণে নিষ্পেষিত হচ্ছে আজ বিশ্বমানবতা। চারিত্রিক চরম বিপর্যয় ও মূল্যবোধের অবক্ষয় আজ মানবজীবনকে কুরে কুরে খাচ্ছে। চতুর্দিকে চলছে ব্যক্তিগত, জাতিগত প্রাধান্যের তীব্র প্রতিযোগিতা। ফলে যুদ্ধ-সংঘর্ষ, প্রতিশোধ স্পৃহা আজ চরম আকার ধারণ করেছে।

পর্দা, অবরোধ ও প্রগতি

পর্দা-প্রথা হল বিশ্ব জুড়ে বহুল আলোচিত এবং সমালোচিত এক বিষয়। ইসলামী আদর্শে যারা আসহাশীল, তাদের মতে পর্দা হল সুশৃংখল এবং দায়িত্বশীল যৌনজীবনের নিশ্চয়তা, অবাধ যৌনতাজনিত অসংখ্য সামাজিক ব্যাধির প্রতিষেধক এবং নারীর মান-সম্ভ্রমের রক্ষাকবচ। যারা পাশ্চাত্য সভ্যতার শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী, তারা মনে করেন এটি অবরোধের নামান্তর, প্রগতির পথে এক অনতিত্রুম্য বাধা, নারীকে অবদমিত করে রাখবার প্রয়াস। সভ্যতার ইতিহাস আমাদেরকে বলে, কোন সভ্যতার ঊর্ধ্বগতি বা অধোগতি নির্ভর করে নারী-পুরতষের পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয়ের উপরে। বিশ্বসভ্যতার অতীত এবং বর্তমান যদি মুত্তুমনে পর্যালোচনা করা হয় তাহলে আমরা দেখতে পাই, নর-নারীর অবাধ মেলামেশা একটি সভ্যতাকে উন্নত আদর্শ ও জীবনাচার থেকে বিচ্যুত করে ত্রুমশঃ ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে যায়। এটা থেকে শুরত হয় অবাধ যৌনতা যা অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ, ভ্রদণহত্যা, অবৈধ সমতান, ধর্ষণসহ নানা প্রকার যৌন-বিকৃতি, নানা প্রকার যৌনরোগ, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং তজ্জনিত অসংখ্য সামাজিক ও মানসিক সমস্যার জন্ম দেয়। এ-সব সমস্যা থেকে মুত্তিু লাভের উদ্যোগ গ্রহণও অসম্ভব হয়ে পড়ে; কারণ এ-ধরণের সমাজে মানুষ প্রবৃত্তির দাসানুদাসে পরিণত হয়। বিশ্ব-সভ্যতার অতীত ও বর্তমান সাক্ষ্য দিচ্ছে, এ-ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে ইসলাম-নির্দেশিত পর্দা-ব্যবসহা। এটার লক্ষ্য না নারীকে অবরতদ্ধ করে রাখা, না তাকে পশ্চাদ্পদ বা পরনির্ভরশীল করা। অমতরে শালীনতা ও লজ্জাশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানসিক পবিত্রতা অর্জনে সাহায্য করা এবং নর-নারীর যৌন-জীবনকে শৃংখলাপূর্ণ ও কলুষমুত্তু রাখাই এর লক্ষ্য।

সাফল্যের সন্ধানে

জীবনে সবাই সাফল্য অর্জন করতে চায়, সফল হতে চায়। সাফল্যের জন্য হন্যে হয়ে ছুটেও বেড়ায়। সাফল্য অর্জনের উপায় কী, তা তাদেরকে হাতরে ফিরতে দেখা যায় অহরহ। সবাই সাফল্য লাভের একই লক্ষ্য নিয়ে ছুটলেও সবাই একই দিকে ছুটে না। যে যেটাকে সাফল্য বলে মনে করে, সেদিকেই হয় তার চলার রোখ; মানুষ সাফল্য বলতে যা বুঝে, সে অনুসারেই সে পথ চলে। তবে প্রচেষ্টা শেষে সবাই কিন্তু সাফল্যের সাক্ষাৎ পায় না। যার মূল কারণ হচ্ছে, সবাই আসলে সঠিক লক্ষ্যটাই নির্ধারণই করতে পারে না।

একটি সাংগঠনিক সেশনে সংগঠন পরিচালনায় দায়িত্বশীলের যত কাজ

সংগঠনের শাখা প্রশাখাগুলোকে লক্ষ্যানুযায়ী কাজে নিয়োজিত রাখাকে সংগঠন পরিচালনা বলে। সুন্দর পরিচালনার ওপর কাজের সফলতা নির্ভর করে। সংগঠনকে সকলের নিকট ভালোভাবে উপস্থাপনের জন্য দায়িত্বশীলদের কতগুলো বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

এসো আলোর পথে

বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদেরকে যোগ্য নাগরিক, চরিত্রবান মানুষ এবং উপযুক্ত মুসলমান হবার শিক্ষা দেয় না। তাই সমাজে ইসলাম কায়েমের জন্যে চাই ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের সৈনিক তৈরি হবে। যারা উপযুক্ত শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, চাকুরিজীবি, ডাক্তার প্রভৃতি হবার সাথে সাথে একজন যথার্থ মুসলিম এবং যোগ্য সৈনিক হবেন। তাই ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থার জন্যে সংগ্রাম করা এ দফার কাজ। ইসলাম প্রতিষ্ঠাই মানবতার সবচেয়ে বড় খিদমত। খিদমত যারা করবেন তারা মানবতার উপকারের সকল সুযোগই কাজে লাগাবেন। তাই ছাত্র সংগঠন হিসেবে ছাত্রশিবির এ দফায় ছাত্রদের প্রকৃত সমস্যার সমাধানে সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

অনুপ্রেরণার মিনার শহীদ আবদুল মালেক

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল। মাত্র ২২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে শহীদ আবদুল মালেকের একেকটি কর্ম যেন একেকটি ইতিহাস হয়ে আছে। তার কর্মময় জীবন ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর জন্যই অনুপ্রেরণা। তিনি জীবনে যেমন একটি সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলেন, তেমনি ইসলমী আন্দোলনের প্রয়োজনে সে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাছে সকল বাধা তুচ্ছ, সকল পিছুটান নিঃস্ব। ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হওয়ার কারণে ক্ষণে ক্ষণে তার মত পাঞ্জেরির প্রয়োজনও অনুভব করেছি।

শহীদ আবদুল মালেক : ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের মহানায়ক

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মূলত মানুষের আত্মা, আধ্যাত্মিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। যে শিক্ষা মনুষ্যত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে জাগ্রত করতে ব্যর্থ সে শিক্ষায় জাতির কোনো কল্যাণে তো আসেই না বরং একটি জাতিসত্তাকে দুর্বল করে ফেলবে খুব সহজেই। এমন একটি ক্রান্তিকালে ১৯৬৯ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে পেরে শহীদ আবদুল মালেক এগিয়ে আসেন একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর মানুষ তৈরির মেন্যুফেস্ট নিয়ে। জাতির সামনে পেশ করেন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা। শহীদ আবদুল মালেক দৃঢ়তার সাথে উদ্বেলিত কণ্ঠে গোটা জাতির কাছে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অবশেষে কুপোকাত হয় ইসলামবিদ্বেষীদের সকল রাশভারী ষড়যন্ত্র ; বিজয়ী হয় শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন। সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও এদেশের মানুষ শহীদ আবদুল মালেককে খুব অনুভব করছেন। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ঘাতকরা আবদুল মালেকের আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি বরং শহীদ আবদুল মালেক আজ লক্ষ-কোটি ছাত্র- জনতার হৃদয়ের মানুষে পরিণত হয়েছেন। একটি আদর্শিক জাতি উপহার দিতে হলে শহীদ আবদুল মালেকের প্রস্তাবিত সেই শিক্ষানীতির অনুসরণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে।

নৃশংসতার নীরব সাক্ষী

১১ই মার্চ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু চড়াই উৎরাই শিবিরকে অতিক্রম করতে হয়েছে। শিবিরের অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জুলুম নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর পরিচালনা করা (সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে) হয় এক নারকীয় লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ। সে এক হৃদয়বিদারক মর্মন্তুদ ঘটনা যা কারবালার ইয়াজিদ বাহিনীর নৃসংশতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।