তওবা : মহান আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার অনন্য সোপান

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর কাছে তওবা করো, প্রকৃত তওবা। আশা করা যায়, আল্লাহ তোমাদের দোষত্রুটিসমূহ দূর করে দিবেন এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করবেন যারা পাদদেশ দিয়ে ঝরনাসমূহ প্রবাহিত৷ সেদিন আল্লাহ নবী এবং নবীর সঙ্গী ঈমানদারদের লাঞ্ছিত করবেন না৷ তাদের ‘নূর’ তাদের সামনে ও ডান দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে থাকবে এবং তারা বলতে থাকবে, হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের ‘নূর’ পূর্ণাঙ্গ করে দাও ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও৷ নিশ্চয় তুমি সব কিছুর ওপর সর্বশক্তিমান ৷ (সূরা আত-তাহরিম : ৮)

রিজিকের ফয়সালা একমাত্র আল্লাহর হাতেই সীমাবদ্ধ

“দুনিয়ায় বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই, যার রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহর ওপর নেই। তাদের স্থায়ী এবং অস্থায়ী অবস্থানস্থল সম্পর্কে তিনি অবহিত। সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে।” (সূরা হুদ : ৬)

সিয়াম সাধনা তাকওয়ার প্রশিক্ষণ

“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর সিয়ামের ফরমান অবতীর্ণ হয়েছে যা তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির ওপরও নাজিল হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার গুণাবলি অর্জন করতে পার।

অগ্নি পরীক্ষার পরেই আসে আল্লাহর পুরষ্কার

১৫৩. ‘ওহে তোমরা যারা ঈমান এনেছো, সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবর অবলম্বনকারীদের সঙ্গে আছেন। ১৫৪. আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়, তাদেরকে তোমরা ‘মৃত’ বলো না। তারা তো আসলে জীবিত। কিন্তু তোমরা তা অনুধাবন করতে পার না। ১৫৫. এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে ভীতিপ্রদ পরিস্থিতি, ক্ষুধা-অনাহার এবং অর্থ-সম্পদ, জান ও আয়-উপার্জনের লোকসান ঘটিয়ে পরীক্ষা করবো। এমতাবস্থায় যারা সবর অবলম্বন করবে, তাদেরকে সুসংবাদ দাও।’

আল্লাহ অবশ্যই অফুরন্ত পুরস্কার দিবেন

১৬০) যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে হাজির হবে সৎকাজ নিয়ে তার জন্য রয়েছে দশগুণ প্রতিফল আর যে ব্যক্তি অসৎকাজ নিয়ে আসবে সে ততটুকু প্রতিফল পাবে যতটুকু অপরাধ সে করেছে এবং কারো প্রতি জুলুম করা হবে না৷ ১৬১) হে মুহাম্মাদ! বলো, আমার রব নিশ্চিতভাবেই আমাকে সোজা পথ দেখিয়ে দিয়েছেন৷ একদম সঠিক নির্ভুল দীন, যার মধ্যে কোনো বক্রতা নেই, ইবরাহিমের পদ্ধতি, যাকে সে একাগ্রচিত্তে একমুখী হয়ে গ্রহণ করেছিল এবং সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না৷ ১৬২) বলো, আমার নামাজ, আমার ইবাদাতের সমস্ত অনুষ্ঠান, আমার জীবন ও মৃত্যু সবকিছু আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য। - সূরা আন'আম

জান্নাতে যাওয়ার সোজা পথঃ আল্লাহর রাহে জীবন দান

অনুবাদ ৭৪. পরকালের বিনিময়ে যেসব লোক দুনিয়ার জীবনকে বিক্রি করে দিয়েছে তাদের উচিত আল্লাহর পথে লড়াই করা। কারণ যে আল্লাহর পথে লড়াই করবে এবং জীবন বিলিয়ে দেবে (মারা যাবে) অথবা বিজয়ী হবে তাকে অচিরেই আমি বিরাট পুরস্কার দেবো। ৭৫. তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আল্লাহর পথে অসহায় নর-নারী ও শিশুদের জন্য লড়বে না যারা দুর্বলতার কারণে নির্যাতিত হচ্ছে এবং ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে এই জালিমের জনপদ থেকে বের করে নাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাঠিয়ে দাও। ৭৬. যারা ঈমানের পথ অবলম্বন করেছে তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে আর যারা কুফরির পথ অবলম্বন করে তারা তাগুতের পথে লড়াই করে কাজেই তোমরা শয়তানের চেলা-চামুণ্ডাদের সাথে লড়াই কর। নিশ্চয় শয়তানের কৌশল খুবই দুর্বল।

সালাতে সুফল লাভের উপায়

আল্লাহপাক বলেন, ‘জমিন ও আসমানের সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। অতএব তোমরা আল্লাহর তাসবিহ কর (সালাত পড়) সন্ধ্যায় (মাগরিব ও এশা) ও প্রত্যুষে (ফজর) এবং বিকেলে (আসর) ও দ্বিপ্রহরে (জোহর)।’ (সূরা রূম : ১৭-১৮)

নির্যাতিতদের আল্লাহ পুরষ্কৃত করবেন

অনুবাদ : যারা আল্লাহর বিধান ও হেদায়াত মানতে অস্বীকার করে এবং তাঁর নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, আর এমন লোকদের প্রাণসংহার করে, যারা মানুষের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও সততার নির্দেশ দেয়ার জন্য এগিয়ে আসে, তাদের কঠিন শাস্তির সুসংবাদ দাও। এরা এমন সব লোক যাদের কর্মকান্ড (আ’মল) দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই নষ্ট হয়ে গেছে, এবং তাদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরা আলে ইমরান : ২১ ও ২২)

কুরআনের আলো মুছে ফেলা যায় না

অনুবাদ: তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্যদ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল দ্বীনের উপর তা বিজয়ী করে দেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। (সূরা ছফ-৮-৯)

সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই

“তারাত নবী হত্যার পরিকল্পনা করল আর আমরাও তাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত নিলাম। তাদের পরিকল্পনা আমার জানা ছিল কিন্তু আমার পলিকল্পনা তারা অবগত ছিল না। এখন দেখে নাও তাদের ভয়াবহ চক্রান্তের কি নিদারূণ পরিণতি হয়েছিল। আমার কঠিন গজব কিভাবে ধ্বংস করেছিল তাদেরকে ও তাদের অভিশপ্ত জাতিকে, এতে জ্ঞানীদের জন্যে রয়েছে অনুভব করার নিদর্শন। সূরা আন-নমল: ৫০-৫২