রাসূল সা. এর দ্বীন প্রসারের পদ্ধতি - রাশেদুল ইসলাম

কুরআনে নির্ধারিত নির্দেশের অতিরিক্ত কথা না বলা : সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন এবং আর্থসামাজিক উন্নতির সাথে সাথে বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধন হয়েছে। যার কারণে দাওয়াত দানকারীর মধ্যে নিত্যনতুন কলাকৌশলের জ্ঞান-সমৃদ্ধি ঘটেছে। একই সাথে টার্গেটেড ব্যক্তির ধারণ যোগ্যতা এবং গ্রহণ মানসিকতারও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু তাই বলে অতিমাত্রায় কৌশলী হতে গিয়ে মৌলিকত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সারকথা হচ্ছে, কুরআনের নির্ধারিত নির্দেশিত কথাকে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে নান্দনিকতা মাধুর্যতা অবশ্যই টার্গেটের মনে আগ্রহের দোলা তৈরি করাতে পারে। তবে কুরআনের বাইরে এবং রাসূল -এর দাওয়াতি কথার বাইরে অতিরিক্ত কথা এবং ভিন্ন কথার দ্বারা দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকা অত্যন্ত জরুরি কাজ। কারণ শ্রোতাকে বিরক্ত করার উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে আল্লাহ নির্দেশ করেননি। বরং তাকে মহান আল্লাহ এবং তাঁর দ্বীনের প্রতি অনুরক্ত করা আমার কর্তব্য।

মেধাবীদের মেধা অপচয় ঝুঁকিপূর্ণ প্রজন্মের অশনিসঙ্কেত - রাশেদুল ইসলাম

ইদানীং শর্টটাইম মেমোরিলস নিয়ে খুব আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে নিয়ে এ বিষয়ে আলোচনা বেশি। আলোচনাটা এরকম যে, বর্তমান সময়ের তরুণ-যুবকরা বিস্তৃত জ্ঞানের নানা দিক-বিভাগে বিচরণ করতে পারছে না। একজন ছাত্র একই সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত একাডেমিক বিষয়াদির বাইরে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি নিয়ে ভাবতে চাইছে না বা পারছে না। এককেন্দ্রিকতা যেন পেয়ে বসেছে তাকে।

"স্বাধীনতার ৫১ বছরেও পরিপূর্ণ উন্নয়ন সড়কে উঠতে ব্যর্থ বাংলাদেশ" -রাশেদুল ইসলাম

মানুষের অন্তর থেকে ন্যায়বোধ লোপ পেলে সেই মানুষের পক্ষে যেকোনো ধরনের ভুল ও অজনহিতকর সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব। আমাদের দেশে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার এবং তাদের সাথে যারা সখ্য রেখে চলতে অভ্যস্ত বা সুযোগসন্ধানী তাদের অবস্থা বিবেচনায় নিলে আমরা এর প্রকৃত চিত্র দেখতে পাই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতার ৫১তম বছর অতিক্রম করছি আমরা। একটা ভূখণ্ডকে গড়ে তোলার জন্য এরচেয়ে বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কিন্তু বাংলাদেশ যে গতিতে এগোচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে আরো ১০০ বছরেও এদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে মৌলিকভাবে চিহ্নিত একটি দেশ হিসেবে বিবেচনায় নেয়া কঠিন হতে পারে।

অনুপ্রেরণার মিনার শহীদ আবদুল মালেক

১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল। মাত্র ২২ বছর। এই ছোট্ট জীবনে শহীদ আবদুল মালেকের একেকটি কর্ম যেন একেকটি ইতিহাস হয়ে আছে। তার কর্মময় জীবন ইসলামী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীর জন্যই অনুপ্রেরণা। তিনি জীবনে যেমন একটি সুন্দর ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলেন, তেমনি ইসলমী আন্দোলনের প্রয়োজনে সে ক্যারিয়ার সেক্রিফাইস করে প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাছে সকল বাধা তুচ্ছ, সকল পিছুটান নিঃস্ব। ইসলামী আন্দোলনের একজন কর্মী হওয়ার কারণে ক্ষণে ক্ষণে তার মত পাঞ্জেরির প্রয়োজনও অনুভব করেছি।

শহীদ আবদুল মালেক : ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের মহানায়ক

শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষা মূলত মানুষের আত্মা, আধ্যাত্মিক ও মানসিক বিকাশ ঘটায়। যে শিক্ষা মনুষ্যত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধের চেতনাকে জাগ্রত করতে ব্যর্থ সে শিক্ষায় জাতির কোনো কল্যাণে তো আসেই না বরং একটি জাতিসত্তাকে দুর্বল করে ফেলবে খুব সহজেই। এমন একটি ক্রান্তিকালে ১৯৬৯ সালে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্র উপলব্ধি করতে পেরে শহীদ আবদুল মালেক এগিয়ে আসেন একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর মানুষ তৈরির মেন্যুফেস্ট নিয়ে। জাতির সামনে পেশ করেন ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার রূপরেখা। শহীদ আবদুল মালেক দৃঢ়তার সাথে উদ্বেলিত কণ্ঠে গোটা জাতির কাছে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন। অবশেষে কুপোকাত হয় ইসলামবিদ্বেষীদের সকল রাশভারী ষড়যন্ত্র ; বিজয়ী হয় শহীদ আবদুল মালেকের স্বপ্ন। সময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আজও এদেশের মানুষ শহীদ আবদুল মালেককে খুব অনুভব করছেন। শহীদ আবদুল মালেককে হত্যা করে ঘাতকরা আবদুল মালেকের আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি বরং শহীদ আবদুল মালেক আজ লক্ষ-কোটি ছাত্র- জনতার হৃদয়ের মানুষে পরিণত হয়েছেন। একটি আদর্শিক জাতি উপহার দিতে হলে শহীদ আবদুল মালেকের প্রস্তাবিত সেই শিক্ষানীতির অনুসরণ সময়ের অনিবার্য দাবি হয়ে উঠেছে।

নৃশংসতার নীরব সাক্ষী

১১ই মার্চ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইতিহাসে এক রক্তাক্ত অধ্যায়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু চড়াই উৎরাই শিবিরকে অতিক্রম করতে হয়েছে। শিবিরের অগ্রযাত্রায় ভীত হয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, জুলুম নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ১৯৮২ সালের ১১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর পরিচালনা করা (সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে) হয় এক নারকীয় লোমহর্ষক হত্যাযজ্ঞ। সে এক হৃদয়বিদারক মর্মন্তুদ ঘটনা যা কারবালার ইয়াজিদ বাহিনীর নৃসংশতাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

মানবজাতির পথনির্দেশক হিসেবে আল কুরআনের তাৎপর্য

৫. কুরআন তেলাওয়াত ঈমান বৃদ্ধি করে : কুরআন তেলাওয়াত বান্দাহর জন্য এমন উপকারী যে, তা তেলাওয়াত করলে ঈমান বৃদ্ধি পায়। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন : “মুমিন তো তারা, যাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয়। আর যখন তাদের ওপর তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে এবং যারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।” (সূরা আনফাল : ২)

পবিত্র রমজান মাসের মর্যাদা ও ফজিলত

রামাদান মাস সিয়াম সাধনা ও তাকওয়ার মাস, কল্যাণ ও বরকতের মাস, রহমত ও মাগফিরাত এবং জাহান্নামের অগ্নি থেকে মুক্তি লাভের মাস। মহান আল্লাহ এ মাসটিকে বহু ফযীলত ও মর্যাদা দিয়ে অভিষিক্ত করেছেন। এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যময় মাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুুত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে যায়। মুমিন বান্দার জীবনে বছরের মধ্যে রমজান মাসটিই এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয়। তাই এ পুণ্যময় মাসের গুরুত্ব এত বেশি। এ কারণেই বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকর, শোকর ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ মৌসুম।

ঐতিহাসিক ১১ মে: কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় মাইলস্টোন

কুরআন আল্লাহর সৃষ্টির মাঝে অন্যতম। ধরার বুকে সবচেয়ে দামি। কুরআনের সংস্পর্শে এসে মানুষ অনেক দামি হয়েছে, আর সে কারণেই মানুষ আশরাফুল মাখলুকাতের আসনে সমাসীন হয়েছে। হযরত ওমরের মতো ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তি কুরআনের সৈনিক হয়ে নিজের জীবনকে আল্লাহর রঙে রঙিন করেছেন, দ্বীনের ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়ে দ্বীনকে বিজয়ী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আবার হযরত বেলালের মতো কৃতদাস মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছেন।