সোমবার, ০১ জুলাই ২০২৪

কবি আসাদ বিন হাফিজের ইন্তেকালে ছাত্রশিবিরের শোক প্রকাশ

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আসাদ বিন হাফিজের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

এক যৌথ শোক বার্তায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আজ ১ জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন! ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর ইন্তেকালে ছাত্রশিবিরের সকল স্তরের জনশক্তিসহ বাংলাদেশের জনগণ গভীরভাবে শোকাহত।”

নেতৃবৃন্দ বলেন, “তিনি ছিলেন বাংলাদেশর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। ইসলামী সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এই ব্যক্তিত্ব একাধারে ছিলেন একজন কবি, সাংস্কৃতিক সংগঠক, ছড়াকার ও সাহিত্যিক এবং প্রকাশক। দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর পরিচালক (অক্টোবর ১৯৮২—সেপ্টেম্বর ১৯৮৩) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

আসাদ বিন হাফিজের সাহিত্যে বাংলার মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণ এবং বিপ্লবের অনুপ্রেরণা প্রকাশ পেয়েছে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সৃজনশীলতার পাশাপাশি তিনি সাহিত্যে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গির ব্যবহারেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি হলো ‘অনিবার্য বিপ্লবের ইশতেহার’।

সাহিত্যে অবদানের জন্য কলম সেনা পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি সংসদ পুরস্কার (১৯৯৭), কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এম.ইউ আহমেদ পুরস্কার (১৯৯৭), কিশোরকণ্ঠ সাহিত্য পুরস্কার (২০০৪),  ছড়ার ডাক পদক ও সম্মাননা (২০০৪), মেলডি শিল্পগোষ্ঠী পদক (২০০৪), গাজীপুর সংস্কৃতি পরিষদ কৃতী সংবর্ধনা (২০০৪), মরহুম ওমর ফারুক সম্মাননা স্মারক ‘কাব্যরত্ন’-২০১৬-সহ অসংখ্য পুরস্কার ও বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন এই কবি। বাংলা ও ইসলামী সাহিত্যে তাঁর ভূমিকা অতুলনীয়। তাঁর রেখে যাওয়া সাহিত্যভান্ডার নতুন নতুন কবি-সাহিত্যিক তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং সহযোগিতামূলক ভূমিকা জাতি কখনোই ভুলবে না। ছাত্রশিবিরের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও প্রত্যাশা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ মহান এই কবির ইন্তেকালে ছাত্রশিবিরের প্রতিটি জনশক্তি আজ শোকাহত। বাংলার জমিনে সাহিত্যজগতে তিনি প্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের মানুষ তাঁকে চিরদিন শ্রদ্ধার সাথেই স্মরণ করবে।”

নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন ধৈর্যধারণ করতে পারে, সেজন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।