শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪

মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির

“একটি হলেও বৃক্ষরোপণ করবো জনে জনে, সবুজ দেশের সুস্থ বাতাস লাগুক সবার প্রাণে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এই বছরও মাসব্যাপী (১৫ জুন থেকে ১৪ জুলাই) বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০২৪ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবির।

কর্মসূচির উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম। এ সময় সেক্রেটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, “ছাত্রশিবির একটি সচেতন দায়িত্বশীল ছাত্রসংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জাতীয় যেকোনো প্রয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও বসবাসযোগ্য দেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ৪৮ বছরের পথচলায় দেশ গড়ার কাজের মাধ্যমে জনতার আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে প্রিয় এ সংগঠন। বিশ্বব্যাপী উষ্ণয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষত বাংলাদেশে তাপমাত্রা প্রতিবছর আগের বছরের রেকর্ড ভাঙছে। তাপমাত্রার এ আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ছাত্রশিবির মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ আভিযান কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।”

তিনি বলেন, “দেশের অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও অবাধে বন উজাড় করার কারণে বনায়ন দিনদিন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ শহরাঞ্চলগুলোতে দিনদিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গত ২৮ বছরে ঢাকা থেকে ২৪ বর্গ কিলোমিটারের সম-আয়তনের জলাধার এবং ১০ বর্গ কিলোমিটারের সমপরিমাণ সবুজ কমে গেছে। এখন জেলা-উপজেলা পর্যায়েও পুকুর বা জলাধার ভরাট করে পরিকল্পনাহীন ভবন নির্মাণ চলছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, রাজধানী ঢাকার নাম পৃথিবীর শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় বারবার আসছে!”

তিনি আরও বলেন, “দেশে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ছাত্রশিবির মাসব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রত্যেক জনশক্তিকে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রশিবিরের এ কর্মসূচিতে সর্বস্তরের ছাত্রজনতাকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আসুন আমরা সকলে মিলে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও সবুজ আবাসভূমি গড়ে তুলি।”

কেন্দ্রীয় সভাপতি ছাত্রদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করার মাধ্যমে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য যে, প্রতিবছরই ছাত্রশিবির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছে। বিগত কয়েক বছরেও নানান উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে ছাত্রশিবির। ২০২৩ সালে রাজধানীকে গুরুত্ব দিয়ে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করে ছাত্রশিবির।

এছাড়া সর্বোচ্চ বৃক্ষরোপণকারী ১০ জন শিক্ষার্থীকে “পরিবেশ বন্ধু অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করা হয়। ২০২২ সালে ছাত্রশিবিরের ২৩৪ জন শহীদের নামে একটি করে বাগান প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২০২১ সালে দেশের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১টি করে অন্তত ১ লক্ষ ৪৭ হাজার বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যে কর্মসূচি নিয়ে ২ লক্ষাধিক গাছ রোপণ করা হয়।

এই বছরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদের আঙিনায় গাছের চারা রোপণ; নদী ভাঙনসহ যেকোনো ভাঙন রোধে এবং বেড়িবাঁধে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় বা ছাদে গাছের চারা রোপণ করা, বিশেষ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাসার বারান্দা ও ছাদে বাগান তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ প্রভৃতি।

বিগত বছরের রোপিত চারাগাছের পরিচর্যা নিয়েও কর্মসূচি রয়েছে ছাত্রশিবিরের এই বছরের বৃক্ষরোপণ অভিযানে।