১১ মার্চ শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে আলোচান সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমেই ছাত্রশিবির আজ গণমানুষের প্রিয় সংগঠনে পরিনত হয়েছে

৩৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপি কর্মসূচি ঘোষনা : গঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে শিবির দেশের ছাত্র সমাজের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান বলেছেন, শিবির তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই আদর্শকে যথাযথভাবে লালন করে পথ চলছে। ছাত্র সমাজের মেধা-মননের বিকাশের লক্ষ্যে সবসময় যুগোপযোগী কর্মসূচি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ৩৯ বছরের পথ পরিক্রমায় শিবির তার গঠনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে ছাত্র সমাজের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছে।

স্বাধীনতার অর্জনকে অর্থবহ করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, রক্তে অর্জিত বিজয়কে অর্থবহ করতে যোগ্যতা সম্পন্ন দেশপ্রেমিক নাগরিকের বিকল্প নেই। ছাত্রশিবির সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছে। কিন্তু সফলতা এখনো আসেনি। তাই স্বাধীনতার অর্জনকে অর্থবহ করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

শহীদদের প্রতিফোটা রক্ত দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, দেশ ও ইসলাম প্রিয় জনগণের প্রাণ প্রিয় নেতাদের হত্যা করে সরকার বাংলার জমিন থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করতে চাইছে। কিন্তু তা বুমেরাং হয়েছে। বরং শহীদদের প্রতিফোটা রক্ত দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ আ.লীগেরই সৃষ্টি

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও জনগণের মৌলিক অধিকারের হত্যা, সর্বক্ষেত্রে অপশাসন এবং সীমাহীন ব্যর্থতা ঢাকতে ও রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে জঙ্গিবাদের জিগির তুলছে আ.লীগ। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ আ.লীগেরই সৃষ্টি।

ইসলামী সমাজ বিনির্মানের মাধ্যমে ২৮শে অক্টোবরের শহীদদের রক্তের বদলা নেয়া হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর শিবির নেতাকর্মীদের হত্যা করে বাংলার জমিন থেকে ইসলামী আন্দোলনকে নির্মূল করতে চেয়েছিল আ.লীগ।

বদরের চেতনা ধারণ করে ইসলামের দুশমনদের মোকাবেলা করতে হবে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, বাতিল শক্তির কালো থাবা থেকে ইসলামকে রক্ষা করতে বদরের চেতনাকে ধারণ করে দ্বীনের দুশমনদের মোকাবেলা করতে হবে।

মীর জাফরের প্রেতাত্মাদের রুখে দিতে দৃপ্ত শপথ নিতে হবে

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, জাতির সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার কলঙ্কিত অধ্যায় পলাশীর ঘটনার শত বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা বিলিন হয়ে যায়নি। মীর জাফরদের প্রেতাত্মারা আবার জাতি ঘারে চেপে বসেছে। তাই মীর জাফরের প্রেতাত্মাদের রুখে দিতে দৃপ্ত শপথ নিতে হবে।

আল কুরআনের আলোকে রাষ্ট্র ও সমাজকে গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে

সেক্রেটারী জেনারেল আতিকুর রহমান বলেন, ১১ই মে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে আল কোরআনের মান রক্ষা করতে গিয়ে এদেশেরই ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির নির্মম গুলি বর্ষণে ১২ বছরের কিশোর শীষ মোহাম্মদসহ নিহত হয় ৮ জন। যা বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ববাসীকে কাঁদিয়েছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, সেইদিনের খুনিদের আজও পর্যন্ত কোন শাস্তি হয়নি বরং তারা পুরষ্কৃত হয়েছে। যারাই কোরআনের আলোকে আলোকিত মানুষ গড়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তাদেরকেই ইসলাম বিদ্ধেষী অপশক্তির রোষানলে পড়তে হচ্ছে।

আল কোরআন ধ্বংসের ষড়যন্ত্রকারীরা যুগে যুগে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে

ছাত্রশিবির সভাপতি ১৯৮৫ সালের ১১ মে’র কথা স্মরণ করে বলেন, সেদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জে যেভাবে কুরআনপ্রেমী মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তা সত্যিই বেদনাদায়ক। দুঃখজনক হলেও একথা সত্য যে, সেদিনের খুনীদের বিচার না করে বরং পুরষ্কৃত করা হয়েছে। উচিৎ ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সেদিনের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা। কিন্তু রাষ্ট্র অবহেলা করলেও সেদিনের শহীদেরা বাংলার জমিনের কুরআন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক আলোক বর্তিকা রুপে ভূমিকা রাখছে।