৫ জুন ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’


বুধবার, ০৫ জুন ২০২৪ - মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪

বিশ্বব্যাপী পরিবেশদূষণ নিয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ ৫ জুনকে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এবারের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে "সবাই মিলে করি পণ, বন্ধ হবে প্লাস্টিক দূষণ।”


আমরা যে প্লাস্টিক বোতলগুলো ব্যবহার করে থাকি সেগুলোর মূল উপাদান পলিইথিলিন। একটি গবেষণায় দেখা যায়, এক আউন্স পরিমাণ পলিইথিলিন প্রস্তুত করলেই প্রায় ৫ আউন্স পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুতে নির্গত হয়। এর মানে দাঁড়ায়- আমরা যতটুকু প্লাস্টিকদ্রব্য তৈরি করছি তার থেকে বেশি পরিমাণ দূষিত পদার্থ বায়ুতে নির্গমন করছি।

২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল The seattles Time (দ্যা সিটলস টাইম) নামক দৈনিকে প্রকাশিত একটি খবর খুব সাড়া ফেলে। সীটল সমুদ্র সৈকতে মৃত পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি বিশাল তিমিকে। পরে যখন সেই তিমির মৃত্যুর কারণ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিমির পাকস্থলীতে বহু প্লাস্টিক বর্জ্য পাওয়া যায়। সেসব প্লাস্টিককেই সেই তিমির মৃত্যুর কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রায়শই আমরা  দেখতে পাই এরকম সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর খবর। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে একটি ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়- প্রতি বছর প্রায় ৮০০ প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণী সমুদ্রযানের বর্জ্য পদার্থ দিয়ে আক্রান্ত হয়, আর এসবের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হচ্ছে প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য।

শীতপ্রধান অঞ্চল থেকে প্রতি বছর আমাদের দেশে পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ পাখি প্লাস্টিক দূষণের শিকার হচ্ছে। এসব পরিযায়ী পাখির প্রায় ৯০% এর পাকস্থলীতেই পাওয়া যাচ্ছে প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ এ সংখ্যা ৯৯% এ গিয়ে ঠেকবে, যা এসব পাখির অস্তিত্বের পথে বিরাট বড় এক বাঁধা।

বিশ্বজুড়ে এখন পরিবেশদূষণের মাত্রা ভয়াবহ। পরিবেশদূষণের উল্লেখযোগ্য কারণের মধ্যে রয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন ও বনভূমি উজাড়, প্রাকৃতিক সম্পদের অপব্যবহার, দ্রুত শিল্পায়ন, সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, শিল্প-কলকারখানার বর্জ্য, গাড়ির বিষাক্ত ধোঁয়া, ওজোন স্তরের ক্ষয়, অ্যাসিড বৃষ্টি, অপরিকল্পিত গৃহনির্মাণ, দারিদ্র্য, প্রসাধনসামগ্রী, প্লাস্টিক দ্রব্যের ব্যবহার ইত্যাদি।

দেশে নগরায়ণের হার দ্রুত বাড়ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ঢাকা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পৃথিবীর সবচেয়ে বাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা রীতিমতো লজ্জাজনক। জেলা পর্যায়ে এখন থেকেই যদি পরিকল্পিতভাবে শহরগুলো গড়ে তোলা না হয়, তবে এদের অধিকাংশের পরিণতি হবে ঢাকার মতো।

ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে প্রাকৃতিক বনাঞ্চলগুলোও, কমছে জৈববৈচিত্র্য। পরিবেশের জন্য এটি একটি বড় হুমকি। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে বিস্তীর্ণ ভূমি পানিতে তলিয়ে যাওয়াসহ, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কিংবা বন্যা ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধি—এ প্রভাবগুলো ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। 

সারা বিশ্বে বর্তমান ৮০ শতাংশ হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য, এর মধ্যে প্রতি মিনিটে ২১ হেক্টর কৃষিযোগ্য জমি বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর ৭৫ লাখ হেক্টর জমি মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। প্রতি মিনিটে ৫০ হেক্টর উর্বর জমি বালুকাকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর বাতাসে বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন কমছে। বিজ্ঞানের অপব্যবহারে ভূপ্রকৃতির ওপর অত্যাচার বাড়ছেই। শস্য রক্ষার জন্য নানা ধরনের কীটনাশক ওষুধ তৈরি ও প্রয়োগ হচ্ছে। এসব বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্যের অনুপ্রবেশ ঘটছে মানুষের শরীরে। ফলে নানা জটিল ও কঠিন রোগের দানা‌ বাঁধছে আমাদের শরীরে।

সৌরজগতে প্রাণের অস্তিত্ব আছে শুধুমাত্র পৃথিবী নামক গ্রহটাতে,অন্য গ্রহগুলোতে তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি অথবা কম হওয়ায় কোনো জীবের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব না। আল্লাহ সেই পৃথিবীতে তাঁর খলিফা হিসেবে আমাদের পাঠিয়েছেন। তাঁর খলিফা হিসেবে এই পৃথিবীকে সংরক্ষণ করাও আমাদের দায়িত্ব। আলেমগণ একেও আমলে সালেহ এর অন্তর্ভুক্ত বলে থাকেন।

আসুন আমাদের পৃথিবীটাকে বাসযোগ্য করি, নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।